ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে যে ভূমিকম্প শুরু হয়েছে, তার তীব্রতা এবার চেন্নাইয়ের সীমানা ছাড়িয়ে রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে। দীর্ঘ ছয় দশকের ‘চিরশত্রু’ ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে’র হাত মেলানোর গুঞ্জন এখন টলিউড ছাড়িয়ে ভারতের রাজনীতির সবচেয়ে ‘হট টপিক’। তবে এনিয়ে মুখে কুলুপ এটেছে দুই দলই।
সিনেমার পর্দায় থালাপাতি বিজয়কে হারানো অসম্ভব হলেও, রাজনীতির ময়দানে তাঁকে ‘ক্লিন বোল্ড’ করতে এবার এক অভাবনীয় ছক কষছে তামিলনাড়ুর দুই প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তি। যে এম কে স্টালিন এবং ইডাপ্পাদি পালানিস্বামী একে অপরের ছায়া মাড়াতেন না, এখন শোনা যাচ্ছে বিজয়কে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে তাঁরাই তলে তলে হাত মেলাচ্ছেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, তামিল রাজনীতিতে এক ‘মহা-আঁতাত’-এর মেঘ জমতে শুরু করেছে।
নির্বাচনে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজগম’ (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জিতে চমক দেখালেও গণিতের লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন সুপারস্টার। নিজে দুটি আসনে জেতায় একটি ছাড়তে হবে, ফলে তাঁর হাতে থাকছে ১০৭টি আসন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী কংগ্রেস (৫ আসন) স্টালিনের হাত ছেড়ে বিজয়ের শিবিরে ভিড়লেও সংখ্যাটা ১১২-তেই আটকে যাচ্ছে। ২৩৩ সদস্যের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১১৭ ছুঁতে এখনও পাঁচজন বিধায়ক কম বিজয়ের। আর এই ‘পাঁচ’-এর ফাঁক দিয়েই এখন গোল করতে চাইছে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে।
সূত্রের খবর, এক অদ্ভুত ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা চলছে। যেখানে এআইএডিএমকে সরকার গঠন করবে আর ডিএমকে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে। দুই দলের বর্তমান আসন সংখ্যা (৪৭+৫৯) মিলে হচ্ছে ১০৬। এর সাথে ছোট ছোট দলগুলোকে টেনে নিয়ে ১১৭ পার করাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। তামিল রাজনীতিতে যা আগে কখনও কল্পনাও করা যায়নি, সেই ‘অসম্ভব’ জোটই এখন বাস্তব হওয়ার পথে।
বিজয়কে কংগ্রেসের সমর্থন দেয়া নিয়ে ডিএমকে শিবিরে আগুন জ্বলছে। দলটির এক নেতার আক্ষেপ, রাহুল গান্ধী ফোনে স্টালিনকে ‘ভাই’ বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও পরের দিনই বিজয়ের হাত ধরেছেন। ডিএমকের সোজা কথা, তাদের ভোট ছাড়া তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের অস্তিত্ব নেই, আর সেই কংগ্রেসই এখন তাদের পিঠে ছুরি মারল। এই ক্ষোভ থেকেই হয়তো চিরশত্রু এআইএডিএমকে’র দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন স্টালিন।
এদিকে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার যেন বিজয়ের পথে আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শপথ নিতে আসার আগে ১১৭ জন বিধায়কের সই করা দালিলিক প্রমাণ জমা দিতে হবে। রাজ্যপালের এই কড়াকড়িকে কাজে লাগিয়েই এআইএডিএমকে তাদের ৫০ জন বিধায়ককে পুদুচেরির রিসোর্টে ‘বন্দি’ করে ফেলেছে, যাতে বিজয়ের শিবিরে কেউ ভাঙন ধরাতে না পারে






