মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
spot_img
Homeঅন্যান্যঅন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে আইপিইউর উদ্বেগ, সমর্থন জানাল আরআরএজিও

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে আইপিইউর উদ্বেগ, সমর্থন জানাল আরআরএজিও

দিল্লির শরণার্থী অধিকারবিষয়ক সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (আরআরএজি) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) গভর্নিং কাউন্সিলের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর জেনেভায় আইপিইউ-এর ২১৬তম অধিবেশনে গৃহীত এই প্রস্তাবে ছয়জন গ্রেপ্তারকৃত সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক, অমানবিক বন্দিদশা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি পদ্ধতির অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আরআরএজি এই ছয় সাবেক সংসদ সদস্য—সাবের চৌধুরী, ফজলে করিম চৌধুরী, হাবিবে মিল্লাত, আসাদুজ্জামান নূর, মোশাররফ হোসেন এবং মুহাম্মদ ফারুক খানের গ্রেপ্তার ও আটক সংক্রান্ত অভিযোগের অন্যতম অভিযোগকারী সংস্থা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ১০০ জনেরও বেশি সাবেক সংসদ সদস্য বাংলাদেশে আটক রয়েছেন এবং তারা একাধিক ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন। এর মধ্যে সংসদ সদস্য নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন।

আইপিইউ জানিয়েছে, দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে তাদের মনোনীত স্বাধীন বিচার পর্যবেক্ষক মামলার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সফর করতে পারেননি, কারণ সময়মতো প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়নি। এছাড়া আইপিইউ প্রতিনিধি দলের সফরের জন্য ভিসা সহায়তার বারবার অনুরোধের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। আইপিইউ মিশন প্রস্তুতির জন্য ভিসা ও সহযোগিতার পুনঃপুন অনুরোধেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।

আরআরএজি-এর পরিচালক ও আইপিইউ-তে অন্যতম অভিযোগকারী সুহাস চাকমা বলেন, আইপিইউ-এর বিচার পর্যবেক্ষক ও প্রতিনিধি দলকে সময়মতো ভিসা না দেওয়া প্রমাণ করে যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কারাবন্দী সাবেক সংসদ সদস্যদের ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে’ বিচার করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন লুকানোর চেষ্টা করছে।”

আইপিইউ বিশেষ করে ফজলে করিম চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, মোশাররফ হোসেন ও মুহাম্মদ ফারুক খানের ক্রমাগত আটক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বন্দিদশার ভয়াবহ অবস্থা, তাদের স্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় প্রভাব, সুষ্ঠু বিচারের অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মামলাগুলোর ধরন ও অভিযোগের কঠোরতা (কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা) নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। আইপিইউ আরও উল্লেখ করেছে যে, আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

আইপিইউ আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একজন বিচার পর্যবেক্ষক এবং যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই দল আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ, কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়।

সুহাস চাকমা আরও বলেন, “আইপিইউ-এর এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। যারা অন্ধভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করছে যে, ড. ইউনূস আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল—প্রকৃতপক্ষে তাঁর আইনের শাসনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। তিনি বিচার বিভাগকে ক্যাঙ্গারু কোর্টে পরিণত করেছেন এবং তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।”

সংগ্রহীত।

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এন্ড মেট্রোরেল

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

মন্তব্য

UA-270723695-1