সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
spot_img
Homeমতামতধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান:শরীফুল ইসলাম

ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান:শরীফুল ইসলাম

মতামত

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে এখন বিএনপি নিজেই বিপদে!অবস্থা এমন দাড়িয়েছে,ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি।
যেখানে শেষ ভেবেছিল সবাই, সেখান থেকেই শুরু হলো নতুন জয়গান।
১.
ধ্বংস করার নীলনকশা শুরু সেই –
পচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগকে চিরতরে শেষ করতে চেয়েছিল। পচাত্তরের পরবর্তী দীর্ঘ সময় মানুষের কথাবলার স্বাধীনতা ছিলোনা, স্বাধীনতার স্বপক্ষে কেউ বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতেও সাহস করতোনা। খুনিদের পুরস্কৃত করে দ্বায়মুক্তি দেয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করা যাবেনা মর্মে আইনও করা হয়েছিল কিন্তু আওয়ামী লীগ এই দেশে ফিরে এসেছিলো আরও বেশি শক্তি নিয়ে।

২.
২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করা সহ একেএকে ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা করে আওয়ামী লীগকে একেবারেই শেষ করতে চেয়েছিল। সবশেষ ২৪ এর ৫ আগষ্ট এবং পরবর্তী সময়েও একই লক্ষবস্তু। এবারও হত্যা করতে না পারলেও প্রথমে দেশবিদেশী চক্রের সম্মেলিত ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা ,তারপর মনোবল ভাঙতে তাঁর এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা, মব হত্যা, নির্যাতন বাড়িঘরে আগুন লুটপাট ইত্যাদি এমন কোনো ঘৃণ্য কাজ বাকী নেই দেশবিরোধী এই নেক্সাসরা করেনি। শান্তনা এতোটুকু শেখের বেটিকে আল্লাহ বাচিয়ে রেখেছেন।

তবে দুঃখজনকভাবে সত্য আজকের বাংলাদেশে হামের টীকার অভাবে শতশত শিশু মরছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ চাকরি হারিয়েছে , ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসা বিনিয়োগ বন্ধ, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ নাই, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীন বৃদ্ধি,চুরি ডাকাতি মব সন্ত্রাসী, আমেরিকার সঙ্গে গোপন চুক্তি, চারদিকে শুধু হাহাকার দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনার সময়েই ভালো ছিলাম।

সেদিন মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ নিজেই বলেছেন,
আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই?

তিনি লেখেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ‘২৪ কে ‘৭১ এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল, স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি।
আইনের শাসনের বদলে মবের শাসন,মব স্টারদের হিরো বানানো এবং ছাত্ররাজনীতির বিপ্লবী ধারা থেকে মব সংস্কৃতিতে রূপান্তর হওয়াকেও তিনি লীগ ফিরে আসার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

যদিও আওয়ামী লীগ ফিরে আসার পেছনে উপরোক্ত কথাগুলো ঠিক নয়, কারণ আওয়ামী লীগ এমনিতেই জনপ্রিয় একটি দল। ৫ আগষ্ট ছিলো শুধু সম্মেলিত ষড়যন্ত্র মাত্র তবে আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের কল্যাণ এবং দেশের পক্ষের একমাত্র দল যে দলটি দেশের এবং জনগণের নিরাপত্তায় অদ্বিতীয়, মাহফুজের কথাগুলো তারই প্রতিচ্ছবি।

যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ বিশ্বের বুকে উন্নয়ন অগ্রগতির রোলমডেল হয়েছিল সেই দেশটিকে এরা ধ্বংসস্তুপে পরিনত করেছে।বৃদ্ধ মায়েরা, গৃহহীন পরিবারগুলো, উপকার ভোগী মানুষগুলো আজ শেখ হাসিনার অভাব বুজতে পারছে। দেশের মানুষের কল্যাণে যে শেখ হাসিনা যত কাজ করে গেছেন, মানুষ এখন তাঁর ফিরে আসার জন্য জায়নামাজ বিছিয়ে দোয়া করছেন। আজকে WMR নিউজে একজন বৃদ্ধ রিকশা চালকের ভিডিও দেখছিলাম বৃদ্ধ লোকটি বলছেন, “আমরা শেখ হাসিনার সরকার চাই, অন্যথায় আমরা জীবন দিবো, রাস্তায় নামবো”।

স্বাধীনতা সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধুর এই বাংলায় রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ ইতিহাস ঐতিহ্যের শুধু অংশই নয়, এদেশের মাটি ও মানুষের হৃদয়ে মিশে থাকা একটি দল, যার শিকড় এই দেশের জন্ম থেকে আজও অব্দি। যে দলটির নেতাকর্মী সমর্থকদের সংখ্যা আনুমানিক ৭ কোটি।
ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ যখন দেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে এবং আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, চারদিকে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হচ্ছে, সোস্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ঠিক নির্বাচনের আগে হেরে যাওয়ার আভাস অনুমান করতে পেরে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে এবং পরবর্তী বিএনপিও সংসদেও আইন করে নিষিদ্ধ করেছে যেনো তাদের বাচ্চাকাচ্চারা সংসদে যাওয়ার সুযোগ পায়।যদিও বিএনপির এই নির্বাচনও ছিলো সম্পূর্ণভাবে মেটিকুলাসলি ডিজাইন করা যা মুলত লোক দেখানো।

সম্ভবত বিএনপি গভীর ঘোরে আছে, তারা মনে স্বপ্ন দেখছে সারাজীবন তারাই ক্ষমতায় থাকবে কিন্তু দিনেদিনে বিএনপি বুজতে পারছে, যে নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ খেলা বিএনপি খেলছে এটা চক্রাকার হয়ে একদিন নিজেদের পায়ে কুড়াল হয়ে বিঁধবে।
আওয়ামী লীগের হাতেও গত ১৭ বছর ক্ষমতা ছিলো ইচ্ছে করলেই বিএনপিকে নিষিদ্ধ করতে পারতো কিন্তু আওয়ামী লীগ তা করেনি।
গত ১৭ বছরে হাজার হাজার সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি করেছেন বিএনপি বিনা বাঁধায়।
কিন্তু বিএনপি এখন যা করেছে তার ফলাফল হয়তো ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য অসহনীয় সংকেত।
এভাবে আওয়ামী লীগকে দমন করতে গিয়ে এরা নিজেরাই এখন অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছে।
বিএনপি কিন্তু ঠিকই বুজতে পারছে, যেইনা দেশ গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে, অংশগ্রহণমুলক শুষ্ঠু নির্বাচন হবে সেই দিন আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় বসবে। আর সেই কাজ অলরেডি শুরু।

ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বারবার দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন— “আমি দেশে ফিরবো, খুব শিগগিরই ফিরবো।” শত বাধা, ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে একচুল নড়েননি। এই খবরে উজ্জীবিত নেতাকর্মী রাজপথে ফিরতে শুরু করেছে যার প্রমাণ নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ সহ সারাদেশে মিছিলের উপস্থিতি।

এদিকে বহির্বিশ্ব থেকেও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা উঠাতে প্রচন্ড চাপে আছে বিএনপি সরকার। যদি কোনো কারণে সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নাও করে তাহলে রাজপথ দিনেদিনে আরও উত্তপ্ত হবে, সরকার বিপাকে পড়বে চতুর্মুখী। যা থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রত্যাশিতভাবেও ক্ষমাতা হারাতে পারে বিএনপি।

বলে রাখা ভালো সরকার কিন্তু বিএনপির একার নয়,একটা বাহিনীর তত্বাবধানে,ডিপ স্টেট এর আলোকে, ইউনূস জামাত এনসিপির বর্ধিত বা যৌথ সরকার এই বিএনপি সরকার যা সবকিছু ভাগাভাগির, কোনোকিছুই তার একার নিয়ন্ত্রণে না।
একটু লক্ষ করলেই পরিস্কার ধারণা পাবেন কেনো বলছি যৌথ সরকার! –
নির্বাচনের মাত্র ৩দিন আগে আমেরিকার সাথে চুক্তি, যা জামাত বিএনপিও নিশ্চুপ। সাথে পাকিস্তান, তুরস্কতো আছেই।
তারপর ৬২০ জন নিরীহ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল! একটা দেশের ৬২০ জন শিশুর মৃত্যু কোনো ছোটখাটো ঘটনা নয়। এই ব্যর্থতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র এমপি যখন আদালতে মামলা করলেন, আদালত তা “যথেষ্ট গ্রাউন্ড নেই” বলে সরাসরি খারিজ করে দিল! তার মানে সরকারে এখনও ইউনূস। হয়তো এই ইউনূসকে রাষ্ট্রপতিও বানানোর গোপন চুক্তি থাকতে পারে।

৩.
যারা ভাবছেন মামলা দিয়ে কোণঠাসা করে রাগবেন তারা জানেনা ইতিহাস।
আওয়ামী লীগের ১.৫ লক্ষ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে ইতিমধ্যে জেলে আছেন।প্রায় ৫ লক্ষের অধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং প্রতিজনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০টি মামলাও রয়েছে।
শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণে গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের দোষর ট্যাগ দিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পু-ড়িয়ে পি টি য়ে হ-ত্যা করার পরও ১০ লক্ষ্যের অধিক মামলা দেওয়া হয়েছে।

এগুলো করেও আওয়ামী লীগকে দাবিয়ে রাখা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবেনা। আওয়ামী লীগ ফিরবে। আওয়ামী লীগ অলরেডি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।

সময় এখন- সেনাবাহিনী বেরাকে ফিরে যাওয়া।
মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া। নাহলে দিনেদিনে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত বোজা আরও ভারি হবে। আর ধৈর্যের এই বাঁধ একবার ভেঙে জনগণ রাস্তায় নামলে পতন নিশ্চিত।

শরীফুল ইসলাম
রাজনৈতিক ও অনলাইন একটিভিস্ট।

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এন্ড মেট্রোরেল

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

মন্তব্য

UA-270723695-1