বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২৬
spot_img
Homeমতামতদিল্লিতে আওয়ামী লীগের দাফন? নাকি নিজেরাই নিজেদের দাফনের আতংকে ভুগছে?

দিল্লিতে আওয়ামী লীগের দাফন? নাকি নিজেরাই নিজেদের দাফনের আতংকে ভুগছে?

দিল্লিতে আওয়ামী লীগের দাফন? নাকি নিজেরাই নিজেদের দাফনের আতংকে ভুগছে?
অপরদিকে সংসদে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আবার নতুন করে দলগতভাবেও নাকি করা হবে বিচার? এটা কি আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ঠেকানোর চেষ্টা ? নাকি গণতন্ত্রের পথ বন্ধ করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় একনায়কতন্ত্রে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা?

১.
৫ আগষ্টের আগে দীর্ঘ ১৬ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়ে। সাথে যোগ হয়েছিল দেশী বিদেশি চক্রান্ত। এমনিতেও দেশের মানুষ সবসময় এক জিনিস বেশিদিন পছন্দও করেনা।
আওয়ামী লীগ একেবারেই সঠিক পথে ছিলো তা বলবোনা! নীতি আদর্শ থেকেও লাইনচুত হয়েছিল। আবার বিশাল এই সংগঠনের অগুনিত নেতাকর্মী যাদের মধ্যে দুই একজনের অনিয়ম দূর্নীতি হয়নি তাও কিন্তু নয়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে অনেকে আঙুল ফুলে কলাগাছও হয়েছে। তবে উন্নয়ন অগ্রগতি, দেশ পরিচালনায় সুদীর্ঘ পরিকল্পনা, দেশ ও জাতির রক্ষাকবচ বলা চলে এই আওয়ামী লীগকেই।

৫ আগষ্টের পরে মানুষ সঠিক নেতৃত্বেটা অনুভব করতে শুরু করে। দেশটা কোথায়? কার হাতে নিরাপদ তা দেশের মানুষ বুজতে শুরু করে।
গত দুই বছরেই মানুষ ফাফিয়ে উঠেছে। হত্যা খুন নৈরাজ্য,দুর্নীতিতে রেকর্ড, শিল্পকারখানা ধ্বংস, বেকারত্বের মহামারী, বিচারহীনতার সংস্কৃতি আইনআদালতের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা, চারদিকে অস্থির অচলাবস্থা দেখে মানুষ এখন বলতে শুরু করেছে শেখ হাসিনাই ভালো ছিলো।

অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি সরকারের গত দুই বছরে দেশে এক টাকার উন্নয়ন অবকাঠামো না হলেও শেখ হাসিনার মেগা উন্নয়ন অবকাঠামো গুলো জাতি বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা। এই মূহুর্তেও যদি আপনি একটি নিরেপক্ষ জরিপ করেন তাহলে দেখবেন, আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে এখন আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা নিয়ে শীর্ষে। কিন্তু জনপ্রিয় এই দলটিকে রাজনীতির মাঠে ফিরতে দিচ্ছেনা নিষিদ্ধ নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে।আপাতত দৃষ্টিতে দেখে মনে হচ্ছে খুব সহজে ফিরতে দিবেওনা তারা, যারা ৭১ বিরোধী, ৭৫ এর ঘাতক,২১শে আগষ্টের কুশীলব , এবং ২৪ এর মাস্টারমাইন্ড এবং ইনক্লুডিং দৃশ্যপটের পেছনের গোটা নেক্সাসরা।

যারা সামান্য ক্ষমতার জন্য মেটিকুলাসলি ডিজাইন করে এতো প্রাণ নিয়ে নিতে পারে, তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে আরও প্রাণও নিতে একটু চিন্তা করবেনা। সেজন্যই তুরাগে লাশ পাওয়া গেলেও মাছ হিসাবে গণনা করা হয়,মানুষ হিসেবে নয়।
দেখেননি? এই দেশে একটা ২১শে আগষ্ট হয়েছিল, গ্রে নে ড দিয়ে আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী হ ত্যা করেছিলো কিন্তু আজকে সেই মামলার সমস্ত আসামি ক্ষমতার শীর্ষে। আজকে কারোর নামে কোনো মামলাই নেই। তাহলে কি আওয়ামী লীগের জনসভায় জিন ভূতে হামলা করেছিলো ?

২.

অনেকেই হয়তো ভাবছে বর্তমানে ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে আমেরিকা ভারতের সহযোগী হবে এবং সে সুবাদে হয়তো আওয়ামী লীগকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে আমেরিকা। এমন যারা ভাবছে তারা ভুলের মধ্যে আছে।

আচ্ছা বলুনতো আমেরিকা যদি ভারতের বন্ধু হয় তাহলে শেখ হাসিনার কাছে আমেরিকা কেনো সেন্টমার্টিন চাইবে? এখানে বসে কি শুধু চীনকে ধরবে? তার বিস্তারিত বলতে চাচ্ছি না। শুধু এটুকু বলে রাখছি, বাংলাদেশকে আমেরিকা কখনো অন্যের দৃষ্টিতে দেখবেনা, নিজের চোখে দেখার সুযোগ থাকতে।
তবে এটা বলতে পারেন বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা আস্তে আস্তে হচ্ছে কিন্তু যদি ২৪ এর ডিপস্টেট এর প্রকৃত হকদার জো বাইডেন হতেন হয়তো এই দেশ এতোদিনে কারবালা হয়ে যেতো।
শেখ হাসিনা হয়তো বোকা তাই আমেরিকার সাথে দেশ বিক্রির চুক্তি করেননি কিন্তু ওরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সব করবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের যা যা প্রয়োজন তার সবটুকুই করেছেন এবং করে চলেছেন।

৩.
খবর দেখলাম, বিএনপির সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের দাফন হয়েগেছে দিল্লিতে।কিন্তু এই খবরে যেখানে বিএনপি খুশিতে নাচার কথা অথচ এরা নাচতে পারছেনা! নাচার জন্যও সেনাবাহিনীকে ভাড়ায় নামাতে হচ্ছে। এটা শুধু হাস্যকরই নয় বরং বিএনপির ভিতরে ভয় আতংকের বহিঃপ্রকাশ। শেখ হাসিনা যখনই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ঠিক সেই মূহুর্তে থেকেই এদের মনে একধরনের ভয় আতংক ঢুকে গেছে। তাইতো নিজেদেরকে স্বাভাবিক করতেই এমন উল্টাপাল্টা বলছেন।

নির্বাচনে যারা হেরে যাওয়ার ভয়ে ভীতু হয়ে নির্বাচনের আগেআগে গোটা নেক্সাসরা মিলে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নিষিদ্ধ করেছে!পরবর্তীতে বিএনপি সংসদেও নিষিদ্ধ আইন পাশ করেছে কিন্তু এগুলো করে, মামলা হামলা করেও কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ঠেকানো যাচ্ছেনা।
এখন যখন সেই নিষেধাজ্ঞাও মানছেনা আওয়ামী লীগ ঠিক তখন নতুন স্বর তাদের কন্ঠে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের বিচার করবে!! মুলত এগুলো সব করছে ভয় আতংক থেকে আবার কবে তাদের নিজেদেরই দাফন হয়ে যায়।

এরা জানেনা,এটা সেই আওয়ামী লীগ যার নেতৃত্বে এই বাংলাদেশের জন্ম। এটা সেই আওয়ামী লীগ যার নেতা স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইতিহাস ঐতিহ্য, সংগ্রাম মানেই আওয়ামী লীগ। কৃষক শ্রমিক দিনমজুর,ধোপা নাপিত, রিক্সাওয়ালা উপরতলা নিচতলা কিংবা সাধারণ আমজনতার দল। এটা শুধু দল নয়,এটা আদর্শ, এটা অনুভূতির নাম।বঙ্গবন্ধুর পর আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। তাকে ইচ্ছে করলেই দাফন কিংবা ধ্বংস করা যায় না। বরং ক্ষমতা আর শক্তি দিয়ে সাময়িক দমিয়ে রাখার সুখ নেয়া যায়।

তবে এটা সত্য নিষিদ্ধ কিংবা গ্রেফতারের ভয়ে
আওয়ামী লীগ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে যত বেশি দেড়ি করবে ততই ফেরার রাস্তা কঠিন হবে।

ভালো করে খেয়াল করলেই দেখবেন, এই দেশ এখন কাদের হাতে!তাদের চালচলন কি! আজকে হয়তো সংসদ ভবন এরিয়াতে দেখেছেন কিন্তু আগামী তিনচার বছর পর যখন প্রকৃত ডিপস্টেট ক্ষমতায় ফিরে আসবে তখন হয়তো এমন জায়গায় দেখবেন তখন আপনার আমার দেশ অনেক বড় সংকটে থাকবে যেখান থেকে ফেরা অসম্ভব।
মনে রাখবেন, বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ঠেকাতে গণতন্ত্রের পথ বন্ধ করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় একনায়কতন্ত্রে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে, লিখে রাখুন, এই ডিপস্টেট বিএনপিকেও বেশিদিন ক্ষমতায় রাখবেনা, তারা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের পছন্দের কাউকে বসাবে। তাই আওয়ামী লীগের ফেরার রাস্তা আওয়ামী লীগ নিজেই করতে হবে।

কেউ একজন বলেছিল, যদি রুখে দাঁড়াতে ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি সাহস করে রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ।

আর যদি সত্যিই আওয়ামী লীগ সাহস করে রুখে দাঁড়ায় নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেতে, বর্তমান জনপ্রিয়তায় আওয়ামী লীগ আবারও বসবে মসনদে আর এদের দাফন দিল্লি কিংবা পিন্ডিতেও জায়গা হবেনা, সোজা বুড়িগঙ্গায় হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

শরীফুল ইসলাম
রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট।

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এন্ড মেট্রোরেল

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

মন্তব্য

UA-270723695-1